রাবণ দহন পর্ব দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে মৃত ৬০ শোকপ্রকাশ মোদি, মমতার

আইডিয়া টুডে নিউজ, পাঞ্জাব, ২০ অক্টোবর ঃ  উত্‍সবের আনন্দের  রাজ্যজুড়ে  এবং দশমীর বিষাদের ছায়া ঠিক তখনি পাঞ্জাবে ঘটল বড়সড় দুর্ঘটনা।জানা যায়  শুক্রবার রেল লাইনে দাঁড়িয়ে দশেরার রাবণ দহন পর্ব দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে অনেকেই। ধোবিঘাটের কাছে চৌরিবাজার এলাকায় ঘটে ঘটনাটি। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০। আহতদের অধিকাংশেরই অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার অমৃতসর এবং মানাওয়ালা স্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থিত ২৭ নম্বর গেটের কাছে লাইনে দাঁড়িয়ে দশেরার উত্‍সব দেখছিলেন অন্তত ৫০০-৭০০ জন মানুষ। রেললাইনের পাশেই চলছিল রাবণ দহন পর্ব। তারস্বরে বাজছিল ঢাক-ঢোল। পুড়ছিল শব্দবাজিও।

রাবণের মূর্তি পোড়া শুরু হতেই দর্শনার্থীরা ২৭ নম্বর গেটের দিকে (ঘটনার সময় সেটি বন্ধ ছিল) ছুটতে শুরু করেন। তখনই দু’দিক থেকে আপ এবং ডাউন লাইনে ডিএমইউ লোকাল এবং হাওড়া-অমৃতসর এক্সপ্রেস চলে আসে। দু’টি ট্রেন একসঙ্গে কখন যে এসে পড়েছে তা কেউ বুঝতে পারেননি। ফলে অধিকাংশ দর্শনার্থী লাইন থেকে অন্যত্র সরে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করার সময়টুকুও পাননি। ডিএমইউ লোকালের ধাক্কায় নিমেষের মধ্যে ট্রেনের তলায় কাটা পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান বহু মানুষ। অনেকে ছিটকে পড়েন রেললাইনের আশপাশে। লাইনে ভিড় থাকলেও সিগনাল সবুজ ছিল বলে জানিয়েছেন ট্রেনের মোটরম্যান।

ইতি মধ্যে  গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা জানিয়েছেন, “অমৃতসরের দুর্ঘটনা হৃদয় বিদারক।”
পাঞ্জাব সরকারের তরফে মৃতের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকরেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। ঠিক কী কারণে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। রাবণ দহনের মতো এত বড় মাপের উত্‍সবের আয়োজন কেন রেললাইনের পাশে করা হল, কেনই বা একসঙ্গে এত লোক লাইন আটকে উত্‍সব দেখছিলেন, তা নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *