নির্ভয়া কাণ্ডে পুনর্বিবেচনা করার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

আইডিয়া টুডে নিউজ, দিল্লি, ৯ জুলাই : ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়াকে চলন্ত বাসে ছ’জন মিলে ধর্ষণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। ছ’জন অভিযুক্তর মধ্যে রাম সিং আত্মহত্যা করে। আর একজন ওই ঘটনার সময় নাবালক ছিল। তাকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। বাকি চার অভিযুক্তর ফাঁসির নির্দেশ দেয় দিল্লি আদালত।

আজ নির্ভয়া কাণ্ডে দোষীসাব্যস্তদের ফাঁসির সাজা পুনর্বিবেচনা করার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সাজা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আপিল করেছিল পবন, বিনয় শর্মা ও মুকেশ। আজ সেই মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।

রায় ঘোষণার পর নির্ভয়ার বাবা বলেন, “আমরা জানতাম এই আর্জি খারিজ করে দেওয়া হবে। কিন্তু এর পর কী? অনেকটা সময় চলে গেছে। এই সময়ের মধ্যে মহিলাদের হুমকি দেওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বাস রাখি খুব তাড়াতাড়ি ওদের ফাঁসি দেওয়া হবে।” রায় প্রসঙ্গে নির্ভয়ার মা বলেন, “ওরা নাবালক ছিল না। খুব দুর্ভাগ্যজনক যে তারা এই ধরনের অপরাধ করেছিল। “
২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট চার দোষীসাব্যস্তকে ফাঁসির সাজা শোনায়। এরপর সেই রায়ের অনুমোদন পেতে মামলা দিল্লি হাইকোর্টে পাঠায় ট্রায়াল কোর্ট। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারকরা দোষীদের ফাঁসির সাজা বহাল রাখে। দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অক্ষয়, পবন, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সুপ্রিম কোর্টে যায়। ২০১৭ সালের ৫ মে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখে। রায়দানের সময় বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “এটি একটি বর্বরোচিত ঘটনা। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় যথার্থ। মহিলাদের কীভাবে সম্মান দিতে হবে তা ছোটো থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত। অপরাধের প্রকৃতি বিরলের থেকেও বিরলতম। এই অপরাধ সুনামির মত স্তম্ভিত করেছে। দোষীদের কিছুতেই ক্ষমা নয়।”

এরপর ফের রিভিউ পিটিশনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে দোষীসাব্যস্তরা। আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই রিভিউ পিটিশনের শুনানি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *