নদিয়ার মায়াপুরে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা, বহু ভক্তের সমাগম পুরীতে ও

আইডিয়া টুডে নিউজ, নদীয়া, ২৮জুনঃনদিয়ার মায়াপুরে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা, বহু ভক্তের সমাগম ইসকন মন্দিরে ও পুরীতে। জৈষ্ঠ পূর্ণিমাতে এই স্নানযাত্রার আয়োজন করা হয়। বিগ্রহকে মন্দিরের বাইরে স্নানবেদীতে নিয়ে আসা হয়। তারপর বিশেষ কুয়োর ১০৮ কলসি জলে স্নান করানো হয়। দুধ-গঙ্গাজলে জগন্নাথদেবের এই স্নানই স্নানযাত্রা উত্‍সব।

মন্দিরের বাইরে প্রভুকে দেখার জন্য কাতারে কাতারে ভিড় জমান ভক্তরা। লোককথা অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নাকি মাথার যন্ত্রণায় কাহিল হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। তীব্র গরমে প্রভু রীতিমতো নাজেহাল। তাঁর উপশমের জন্য সে সময় কপালে পুরু চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়। সেই চন্দন ধুতেই ঘটা করে এই স্নানের আয়োজন। শোনা যায় এত স্নানের পর এবার নাকি জগন্নাথদেবের জ্বর হয়। তাই আগামী পনেরোদিন তিনি আর কাউকে দর্শন দেন না।

স্নানযাত্রার ঠিক দু’সপ্তাহের মাথাতেই রথযাত্রা পালন করা হয়। আজও ভক্তরা এই কথাতেই বিশ্বাস করেন। সামনে থেকে জগন্নাথ দর্শনের জন্য ভিড় জমান পুরীতে। প্রতি বছরের মতো এবারও তার ব্যতিক্রম নেই।

এর এক সামাজিক তাত্‍পর্যও আছে বটে। যে ভক্তরা মন্দিরে পৌঁছতে পারেন না, তাঁর জন্য স্বয়ং জগন্নাথ বাইরে বেরিয়ে আসেন। এর সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট।

মন্দিরকে নিয়ে যে ক্ষমতার বাতাবরণ, তা ভেঙে স্বয়ং বিগ্রহের বাইরে বেরিয়ে আসা লোকতন্ত্রের একটি বিশেষ লক্ষণকেই চিহ্নিত করে। কেন্দ্রীকরণ নয়, জনগণতান্ত্রিকতার ঘোষণা হয়ে থাকে এই কাজ। তেমনই এই রূপকে অধ্যাত্মিক তত্ত্বটিও পরিচিত। উপনিষদে ব্যক্তির কাছে দেবতার আসার কথা বারবারই উচ্চারিত।

একাধিক রবীন্দ্রসঙ্গীতেও পূজা-প্রেমের সে কথা উঠে এসেছে। আমার দিকে তোমার দিকে যেমন যাত্রা আছে, তেমনই তোমার থেকে আমার দিকেও আছে যাত্রা। একদিন তাই দুযার ভেঙে যায়। দেখা যায়, সব হারানো শূন্যতার উপর তিনিই অধিষ্ঠিত। জগন্নাথের বাইরে আসা যেন সেই ‘আমার দিকে তাঁর’ যাত্রা হিসেবেই সূচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *