মালদায় অক্সিজেনহীন সিলিন্ডারের নল রোগীর নাকে লাগানোর নির্দেশ নার্সের

আইডিয়া টুডে নিউজ, মালদা, ২২ জুনঃফাঁকা সিলিন্ডারের নলই রোগীর নাকে লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্তব্যরত নার্স। সরকারি নার্সের নির্দেশেও অন্যায় কাজ করতে রাজি হননি হাসপাতালের এক GDA কর্মী। সোজা চলে গেছিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে। এখন তিনি ভয় পাচ্ছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে

পরতিবাদী এই স্বাস্থ্যকর্মীর নাম রঞ্জিৎ দাস। বাড়ি বামনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হরিপাল গ্রামে। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি এই চাকরি পান। বামনগোলা ব্লকেরই কাশিমপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত। ১৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত, ১৫ দিনের জন্য তাঁকে বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৮ জুন সেখানে কাজে যোগ দেন তিনি। ২০ তারিখ সকালেই ঘটে অঘটন ! রঞ্জিৎবাবুর অভিযোগ, সেদিন তাঁর ডিউটি ছিল সকালে। তিনি নির্দিষ্ট সময়েই হাসপাতালে উপস্থিত হন। সকাল ৮টা নাগাদ এক আশঙ্কাজনক রোগীকে অক্সিজেন ও নেবুলাইজ়ার লাগানোর নির্দেশ দেন কর্তব্যরত নার্স। তিনি গোটা হাসপাতাল খুঁজে দেখেন, কোনও সিলিন্ডারে অক্সিজেন নেই। সেকথা তিনি নার্সকে জানান। নার্স তাঁকে নির্দেশ দেন, খালি সিলিন্ডারের পাইপ তিনি যেন রোগীর নাকে লাগিয়ে রাখেন। তিনি এই অন্যায় কাজ মানতে চাননি। সেই সময় ওই হাসপাতালের অন ডিউটি চিকিৎসক ছিলেন BMOH। তাঁকে হাসপাতালে না পেয়ে তিনি তাঁর কোয়ার্টারে যান। সেই সময় BMOH তাঁর চেম্বারে রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার মধ্যেও তিনি তাঁকে সব ঘটনা খুলে বলেন। BMOH-ও তাঁকে নার্সের কথামতো রোগীর নাকে খালি পাইপ লাগিয়ে রাখতে বলেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে BMOH তাঁকে সাসপেন্ড করার হুমকি দেন ও তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। রঞ্জিৎবাবু হাসপাতালে ফিরে যান। নার্স তাঁকে লেবার রুম থেকে সিলিন্ডার আনতে বলেন। কিন্তু, তখন লেবার রুমে এক প্রসূতির প্রসব চলছিল বলে তিনি সেখানে যেতে চাননি। খানিক পরেই কিছু লোকজন নিয়ে হাসপাতালে আসেন BMOH। তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে তাঁকে বলে, তাতে অক্সিজেন রয়েছে। কিন্তু তিনি অনেক আগেই ওই সিলিন্ডার পরীক্ষা করে দেখেছিলেন, তাতে অক্সিজেন নেই। সেকথা তিনি জানালে BMOH ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে মারতে উদ্যত হন। BMOH তাঁকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *