পুরুলিয়ায় গণনাকেন্দ্রের কাছে উদ্ধার ছাপ দেওয়া ব্যালট

আইডিয়া টুডে নিউজ, পুরুলিয়া, ২০মেঃ  পুরুলিয়ায় গণনাকেন্দ্রের কাছে উদ্ধার ছাপ দেওয়া ব্যালট,। রীতিমতো সেখনে চাঞ্চল্য  দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার ভোট গণনা হয়েছিল পুঞ্চার লৌলাড়া রাধাচরণ একাডেমিতে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ গণনাকেন্দ্র চত্বরে, ছাদে, পুকুরপাড়ে এবং আবর্জনার স্তুপে ছাপ মারা ব্যালট ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

প্যান্ডেল খোলার জন্যে কয়েকজন শ্রমিক স্কুলে গিয়েছিলেন। তাঁরা প্রথম ব্যালটগুলি দেখতে পান। স্কুলের কাছে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়েও কয়েকজন ব্যালট দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। পুঞ্চার ব্লক কংগ্রেস সভাপতি বারিদবরণ মাহাতো জানান, খবর পেয়ে কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান

সিপিএমের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ”পুঞ্চার আসনটিতে কারচুপি হয়েছে। রবিবার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ডেকে আমরা নির্বাচন কমিশনে এই ব্যাপারে অভিযোগ জানাব। জেলা পরিষদের ওই আসনে অবাধ এবং মুক্ত পরিবেশে পুনর্নির্বাচন চাইছি।” এ দিন বিকেলে পুঞ্চা থানার সামনে গণনায় কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।

তবে জেলাশাসক অলকেশপ্রসাদ রায় বলেছেন, ”কিছু ছাপ দেওয়া আর কিছু অব্যবহৃত ব্যালট ঘরের বাইরে পাওয়া গিয়েছে, এটা সত্যি। তবে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, হিসেবের বাইরের কিছু তার মধ্যে ছিল না। অস্বাভাবিক বা বেআইনি কিছু হয়নি।” তাঁর দাবি, ছাপ মারা যে ব্যালট পাওয়া গিয়েছে, সেগুলিতে ভোটকর্মীদের ভোট নেওয়া হয়েছিল। সেই ভোট গণনাতে ধরাও হয়েছে।

অন্য দিকে, বিডিও (পুঞ্চা) অজয় সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, এ দিন কী হয়েছে জানতে ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে ওই এলাকায় পাঠানো হলে তাঁদের হেনস্থা করা হয়। হেনস্থাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।

তবে স্ট্রং রুমে ঢুকে বাক্স বদলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিডিও (পুঞ্চা)। তিনি বলেন, ”সোমবার ভোটদান পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সামনে স্ট্রং রুম সিল করা হয়েছিল। শনিবার গণনাকেন্দ্রের সামনে কী হয়েছে জানার জন্যে সকালে ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে পাঠিয়েছিলাম। ওঁরা পড়ে থাকা ব্যালট নষ্ট করেননি। তবু কয়েক জন লোক ওঁদের হেনস্থা করে।” ছাপ মারা ব্যালট ছড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”সম্ভবত ওইগুলি ইডি ব্যালট। কেউ ভোট দিয়ে খামে সাদা কাগজ ভরে জমা দিয়ে থাকতে পারেন।” সিপিএম ও কংগ্রেস অবশ্য দাবি করছে, উদ্ধার হওয়া ব্যালটের পিছনে নম্বর রয়েছে। রয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারের সইও। তার নিরিখে তদন্ত করে দেখার দাবি তুলেছে দুই দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *