তুলসীপাতা ডেঙ্গু আটকায়, প্লেটলেট বাড়ায় পেঁপের বীজ, কাঁচা হলুদের রস

দাবি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধ, নিরাময় এবং মশা তাড়াতে ভালো কাজ দেয় আয়ুর্বেদ। এমনটাই দাবি করছেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা। ঘরোয়া টোটকা বা হাতের কাছেই দোকানে পাওয়া যায় এমন বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক ওষধি দিয়ে কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা যেতে পারে এই ভাইরাসঘটিত রোগের, জানাচ্ছেন তাঁরা। তার মধ্যে যেমন নারকেল তেল বা সর্ষের তেল রয়েছে, তেমনই রয়েছে পেঁপে পাতার রস, পেঁপের বিচি, তুলসীপাতা, গুলঞ্চ, চিরতা, কালমেঘের মতো ওষধিগুণসম্পন্ন আয়ুর্বেদিক গাছ-গাছড়া। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর লক্ষণ, উপসর্গের সঙ্গে খুব মিল রয়েছে আয়ুর্বেদে বর্ণিত দণ্ডকজ্বরের। ওই জ্বরেও চোখের পিছনে ব্যথা, তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়া (১০৩-১০৪ ডিগ্রি), জ্বরের সঙ্গে হেমারেজ ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। আর তার উপশমের পথও বাতলে দেওয়া আছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে। তাঁদের দাবি, মশা তাড়ানোর উপায়ও বলা আছে সেখানে। নারকেল তেল বা সরষের তেল (কটূ ধরনের) পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত লাগিয়ে রাখলে, সেখানে মশা কম কামড়ায়। এছাড়া লেমন গ্রাস ঘরের কোণায় রেখে দিলে মশার উৎপাত কমে।
যাঁদের ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু হয়েছে, তাঁদের চিন্তা কীভাবে এই রোগ থেকে নিস্তার পাবেন। আবার যাঁদের এই রোগ হয়নি, তাঁরা ভাবছেন, কী এমন করা যেতে পারে, যাতে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের এই রোগ না হয়।
আয়ুবের্দিক শিক্ষক চিকিৎসক ডাঃ লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রিভেনটিভ হিসাবে কিছু কিছু জিনিস ব্যবহার করলে এই রোগের কবলে পড়ার আশঙ্কা কমে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। এমনই বলছে আয়ুর্বেদ। তাঁর দাবি, ইমিউনিটি বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় তুলসীপাতা। দিনে পাঁচ-ছ’টা তুলসীপাতা চিবিয়ে খেতে পারলে ডেঙ্গুর আক্রমণ কমানো যায়। মেথি শাকের রসও ডেঙ্গুনাশক। চিরতা ভিজানো জল এবং কালমেঘের রস মিশিয়ে খেলে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ তৈরি করা সম্ভব। আর একবার ডেঙ্গু বা আয়ুর্বেদে বর্ণিত দণ্ডকজ্বর হয়ে গেলে দিনে চারবার হিঙ্গুলেশ্বরের রস এবং শুকনো আদার পাউডার বা শুট খাওয়া যেতে পারে। প্লেটলেট কমতে শুরু করলে দিনে ১০ এমএল করে পেঁপে পাতার রস ও গুলঞ্চের ট্যাবলেট খেলে কাজ দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব আয়ুবের্দিক ড্রাগ ডেভেলপমেন্ট-এর রিসার্চ অফিসার ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ অচিন্ত্য মিত্র বলেন, ডেঙ্গুর সময় জ্বর কমাতে ধনে, শ্বেতপাপড়া, চিরতা, শুট ইত্যাদি মিশিয়ে কাথ তৈরি করে ১৫-৩০ মিলিলিটার করে খাওয়ানো যেতে পারে। হেমারেজিক জ্বর হলে রক্তচন্দন, যষ্টিমধু এবং মিছরি দিয়ে কাথ তৈরি করে ওই একই অনুপাতে খাওয়ানো যেতে পারে। ওই একই সংস্থার প্রাক্তন চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং শিক্ষক চিকিৎসক ডাঃ সুবলকুমার মাইতি বলেন, আমরা দেখেছি, শুধু পেঁপে পাতার রসই নয়, পেঁপের বীজও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মূলত প্লেটলেট কমলে পেঁপের বীজ বেঁটে রস করে খাওয়া যেতে পারে। দূর্বাঘাসের রস এবং কাঁচা হলুদের রস সমপরিমাণ মিশিয়ে খেলেও তা প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ডেঙ্গুতে জ্বরনাশক হিসাবে তুলসীপাতা, বেলপাতা ও শিউলিপাতা সিদ্ধ করে বা তার রস বের করেও খাওয়া যায়। আখনাদি পাতার রস ডেঙ্গু ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে বলে দাবি করেছেন এই চিকিৎসা বিজ্ঞানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *