সত্যজিত্‍ রায়ের জন্মদিনে একাল-সেকাল

আইডিয়া টুডে নিউজ , ২ মেঃ ২মে বিখ্যাত বাঙালি ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্‍ রায়ের জন্মদিন। ১৯২১ সালের এই দিনে ক্ষণজন্মা মানুষটি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সত্যজিত্‍ রায় শুধু চলচ্চিত্রে অবদানের জন্যই নয়, বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যও বিখ্যাত। তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র হল গোয়েন্দা ফেলুদা, বৈজ্ঞানিক প্রফেসর শঙ্কু ও তারিনীখুড়ো। তিনি এই তিনটি চরিত্র ছড়াও অনেক ছোট উপন্যাস ও ছোট গল্প রচনা করেছেন। তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর-তরুণ পাঠকরা। যদিও তিনি ছোট বড় সবার কাছেই প্রিয় লেখক ছিলেন।

সত্যজিত্‍ রায়ের অধিকাংশ উপন্যাস ও গল্প প্রকাশ হয় কলকাতার আনন্দ প্রকাশনের মাধ্যমে। তাঁর অধিকাংশ স্ক্রিনপ্লেগুলি তাঁর বন্ধু নির্মাল্য আচার্য সম্পাদিত ‘ঈক্ষণ’ নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের মঝামাঝি তাঁর অনেক চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখা এবং ছোট গল্পের সংকলন পাশ্চাত্যেও প্রকাশিত হয়। তাঁর অনেক গল্পই ইংরেজিতে অনুদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিত্‍ ছিলেন বহুমুখী এবং তাঁর কাজের পরিমাণ বিপুল। তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’ ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উত্‍সবে পাওয়া ‘শ্রেষ্ঠ মানব দলিল’ পুরস্কারটি। পথের পাঁচালী, অপরাজিত ও অপুর সংসার- এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একত্রে অপু ত্রয়ী বলা হয়। এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বা ম্যাগনাম ওপাস হিসেবে বহুল স্বীকৃত। চলচ্চিত্র মাধ্যমে সত্যজিত্‍ চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সংগীত স্বরলিপি রচনা, চিত্র গ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, শিল্পী-কুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নঁকশা করাসহ নানা কাজ করেছেন।

চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারটি (অস্কার), যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এটি অর্জন করেন। এ বছরেরই ২৩ এপ্রিল না ফেরার দেশে চলে যান এ বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাণ শিল্পী।

One Comment on “সত্যজিত্‍ রায়ের জন্মদিনে একাল-সেকাল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *