আজ বিশ্বজুড়ে নারী দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদন ঃ আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।দেশ জুড়ে পালিত হয়েছে নারী দিবস। এযুগে নারিরা কোন অংশ পিছিয়ে নেয়। পুরুষেরা থেকে  নারীশক্তিকে অনেকেই মনে করেন দুর্বল৷ কিন্তু, পরিস্থিতির কারণে নারীশক্তিই যে অসুর দমনে কাজে লাগে, তা আজানা নয় কারোরই৷ কোমল হৃদয়ের নারীরাও যে অনেক কঠিন কাজকে সহজে করে নিতে পারেন, তার জ্বলন্ত উদাহরণ খড়্গপুরের ‘গৌরী আম্মা’৷ তেলুগু সম্প্রদায়ের গৌরী আম্মা, ৩৫ বছর ধরে শবদাহের কাজ করছেন খড়্গপুর পুরসভার গান্ধীনগর শ্মশানে৷ গৌরী দেবী আদতে তামিলনাড়ুর বাসিন্দা৷ স্বামী কাকরোল রাও-র সঙ্গেই তামিলনাড়ু থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন খড়্গপুর রেল শহরে৷ কাকরোল রাওয়ের পরিবার রেলে কাজ করলেও, তিনি নিজে সেখানে কাজ পাননি। তবে, সেই সময়ে রেলের অধীনে থাকা খড়্গপুর শহরের গান্ধীনগর শ্মশানে শবদাহের কাজ পেয়ে যান। কিন্তু, তিন নাবালিকা মেয়ে ও স্ত্রী গৌরী দেবীকে রেখে প্রায় ৩৫ বছর আগেই মারা যান কাকরোল রাও৷ এবং, তামিলদের প্রথা অনুসারে তাঁর দেহ সমাধি দেওয়া হয়৷ পরিবারে ছেলে না থাকায় তাঁর শেষকৃত্য করেছিলেন গৌরী দেবীই৷স্বামীর মৃত্যুর পরে তাঁর কাজটি পেয়ে যান গৌরী দেবী৷ শ্মশানে মৃতদেহ পোড়ানোর মতো ভয়ঙ্কর কাজ করতে তখন কেউই এগিয়ে আসেনি৷ তাই সেই সুযোগকে কাজ লাগিয়ে প্রতিবেশীদের উৎসাহে হয়ে গেলেন মড়া পোড়ানোর ‘মহিলা ডোম’৷ ধীরে ধীরে গৌরী দেবী থেকে তিনি হয়ে ওঠেন গৌরী আম্মা। একটি মড়া পোড়ালে মিলত ৪০০ টাকা৷ তবে তার জন্য দিন-রাত, সময়-অসময়, শরীর খারাপ দেখলে চলতো না গৌরী দেবীর৷ যতই অসুস্থ থাকুন না কেন, ডাক পড়লে গৌরী আম্মাকে যেতেই হতো শ্মশানে৷ তাই তাঁর ঝুপড়ি ছিল শ্মশানের সামনেই৷ এভাবেই ৩৫ বছর ধরে জীবন যাপন করেছেন দেশের একমাত্র মহিলা ডোম৷ তিন মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তাঁর উপার্জিত টাকায়৷ গৌরী দেবী বলেন ‘রেল থেকে পুরসভা— কেউই আমার দিকে তাকায়নি৷ পেটের টানে এই পেশা এখন আমার কাছে একেবারে সহজ হয়ে গিয়েছে৷ তা ছাড়া, কোনও কাজই ছোট নয় বলে আজও করে চলেছি৷’ তিনি আরও বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যুই সত্য৷ তাই আর এই দেহ পোড়াতে ভয় লাগে না আমার৷’

          

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *