গ্রুপ-ডি পদে ৬২ হাজার ৯০৭জন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেলমন্ত্রক

গ্রুপ-ডি পদে ৬২ হাজার ৯০৭জন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেলমন্ত্রক। বাজেট পেশের আটদিনের মাথায় রেলমন্ত্রকের তরফে শুরু হল বড়সড় নিয়োগের প্রক্রিয়া। শনিবার প্রকাশিত হল বিজ্ঞপ্তি। নির্দেশিকা অনুযায়ী এদিন অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই গ্রুপ-ডি পদের জন্য আবেদন করতে পারেন চাকরি প্রার্থীরা। চলতি রেল বাজেটকে মাথায় রেখে রেলের সুরক্ষার দিকটি ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রক। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে এই কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল  দশটা থেকে শুরু হয়ে ১২ মার্চ বেলা ১১.৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। অনলাইনেই আবেদন করতে পারবেন চাকরি প্রার্থীরা। বিজ্ঞপ্তির শূন্য পদের তালিকায় রয়েছে কিম্যান, ওয়েলডার, হেল্পার, গ্যাংম্যান, ফিটার, পোর্ডার, শানটার, কেবিনম্যান। এখন সবমিলিয়ে ভারতীয় রেলের মোট ১৬টি বিভাগে শূন্য পদ রয়েছে। সবকটিতেই কর্মী নিয়োগ হবে। উল্লেখিত পদে আবেদন করতে গেলে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮-৩১-এর মধ্যে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীরা বয়সসীমায় ছাড় পাবেন। মাধ্যমিক পাস, আইটিআই ও সমতুল কোর্সের শংসাপত্র থাকলেই আবেদন করতে পারবেন প্রার্থী। অনলাইনে আবেদনের সময়ই পরীক্ষা বাবদ নির্ধারিত ফি জমা করতে হবে। রেলের নিয়োগ সংক্রান্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেই রয়েছে বিজ্ঞপ্তির যাবতীয় বিবরণ। প্রার্থীকে প্রথমে কম্পিউটার বেসড পরীক্ষায় বসতে হবে। ৯০ নম্বরের পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিংও থাকবে। এটিতে উত্তীর্ণ হলে মেডিক্যাল পরীক্ষার সূচি রয়েছে। তার পরেই চাকরি। গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সফল উত্তীর্ণরা মাসিক ১৮ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পাবেন।

তবে এখানেই শেষ নয়, গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের পাশাপাশি অ্যাসিসট্যান্ট লোকো পাইলট ও টেকনিশিয়ান পদেও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। প্রায় ২৬,০০০ শূন্য পদের নিয়োগ হবে এক্ষেত্রে। ১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্যমাত্রায় রেখে নিয়োগসূচিকে দীর্ঘ করা হয়েছে। চলতি বছরে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী বছর ধরে চলবে। এমনটাই রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের। বেকারত্ব প্রসঙ্গে পকোড়া রাজনীতি নিয়ে সরগরম সংসদের উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ। সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়া মতো রয়েছে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। যার জেরে বহু মানুষ রুটিরুজি হারিয়েছে। বেকারত্ব প্রসঙ্গে বিরোধীরা যখন মোদি সরকারের সমালোচনায় মুখর, তখন একপ্রকার গা বাঁচাতেই এই বিজ্ঞপ্তির সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *